Class Five paribesh পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ পরিচিতি question answers

 

 পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ পরিচিতি



১.১ বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ)

১. পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি? (ক) টাইগার হিল (খ) গোর্গাবুরু (গ) সান্দাকফু (ঘ) ফালুট উত্তর: (গ) সান্দাকফু

২. সুন্দরবনের একটি বিখ্যাত নদীর নাম হলো— (ক) তিস্তা (খ) গঙ্গা (গ) বিদ্যাধরী (ঘ) জলঙ্গি উত্তর: (গ) বিদ্যাধরী

৩. উত্তরবঙ্গের তরাই অঞ্চলে কোন ফল সবচেয়ে ভালো হয়? (ক) আম (খ) লিচু (গ) আনারস (ঘ) আপেল উত্তর: (গ) আনারস

৪. ল্যাটেরাইট মাটির রং লাল হওয়ার প্রধান কারণ কী? (ক) কাদার ভাগ বেশি (খ) পলি বেশি (গ) লোহার অক্সাইড বেশি (ঘ) বালি বেশি উত্তর: (গ) লোহার অক্সাইড বেশি

৫. বক্সার বাঘবন পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় অবস্থিত? (ক) মালদা (খ) বীরভূম (গ) জলপাইগুড়ি (ঘ) নদিয়া উত্তর: (গ) জলপাইগুড়ি

৬. গঙ্গার যে শাখাটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তার নাম হলো— (ক) ভাগীরথী (খ) হুগলি (গ) পদ্মা (ঘ) রূপনারায়ণ উত্তর: (গ) পদ্মা

৭. ‘রাঢ়’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী? (ক) সমতল ভূমি (খ) পাথুরে জমি (গ) বালিময় স্থান (ঘ) জলাভূমি উত্তর: (খ) পাথুরে জমি

৮. কোচবিহার জেলার একটি বিখ্যাত বিলের নাম হলো— (ক) সেনচল বিল (খ) নাথুলা বিল (গ) রসিক বিল (ঘ) মিরিক বিল উত্তর: (গ) রসিক বিল

৯. সাদা অর্কিড প্রধানত কোথায় দেখা যায়? (ক) দিঘা (খ) সুন্দরবন (গ) কার্শিয়াং (ঘ) শান্তিনিকেতন উত্তর: (গ) কার্শিয়াং

১০. মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল কোনটি? (ক) গঙ্গোত্রী (খ) ডাওহিল (গ) গোমুখ (ঘ) সান্দাকফু উত্তর: (খ) ডাওহিল

১১. রূপনারায়ণ নদ কোন দুটি নদীর মিলিত প্রবাহ? (ক) কেলেঘাই ও কংসাবতী (খ) দ্বারকেশ্বর ও شিলাবতী (গ) গঙ্গা ও পদ্মা (ঘ) অজয় ও ময়ূরাক্ষী উত্তর: (খ) দ্বারকেশ্বর ও শিলাবতী

১২. জলদাপাড়া অরণ্য কোন প্রাণীর জন্য বিখ্যাত? (ক) বাঘ (খ) একশৃঙ্গ গন্ডার (গ) হরিণ (ঘ) হাতি উত্তর: (খ) একশৃঙ্গ গন্ডার

১৩. মাটির পুতুল তৈরির জন্য বিখ্যাত স্থান কোনটি? (ক) বিষ্ণুপুর (খ) কৃষ্ণনগর (গ) বোলপুর (ঘ) ব্যান্ডেল উত্তর: (খ) কৃষ্ণনগর

১৪. রাঢ় অঞ্চলের প্রধান মাটির ধরন হলো— (ক) নোনা মাটি (খ) পাহাড়ি মাটি (গ) দোআঁশ ও এটেল (ঘ) বালু মাটি উত্তর: (গ) দোআঁশ ও এটেল

১৫. ভাগীরথী ও হুগলি নদীর মিলনস্থল কোথায়? (ক) কলকাতা (খ) দিঘা (গ) নবদ্বীপ (ঘ) মুর্শিদাবাদ উত্তর: (গ) নবদ্বীপ

১৬. বালুরঘাট শহরটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত? (ক) তিস্তা (খ) মহানন্দা (গ) আত্রেয়ী (ঘ) তোর্সা উত্তর: (গ) আত্রেয়ী

১৭. হলদি নদী কোন দুটি নদীর মিলিত প্রবাহ? (ক) দ্বারকেশ্বর ও শিলাবতী (খ) কেলেঘাই ও কংসাবতী (গ) গঙ্গা ও জলঙ্গি (ঘ) রূপনারায়ণ ও দামোদর উত্তর: (খ) কেলেঘাই ও কংসাবতী

১৮. কলকাতার ঢাল সাধারণত কোন দিকে? (ক) পূর্ব থেকে পশ্চিমে (খ) পশ্চিম থেকে পূর্বে (গ) উত্তর থেকে দক্ষিণে (ঘ) দক্ষিণ থেকে উত্তরে উত্তর: (খ) পশ্চিম থেকে পূর্বে

১৯. পশ্চিমবঙ্গের একটি নিত্যবহ নদী হলো— (ক) দামোদর (খ) ময়ূরাক্ষী (গ) গঙ্গা (ঘ) রূপনারায়ণ উত্তর: (গ) গঙ্গা

২০. মুণ্ডেশ্বরী নদীটি কোন নদী থেকে বেরিয়ে এসেছে? (ক) শিলাবতী (খ) দামোদর (গ) রূপনারায়ণ (ঘ) ভাগীরথী উত্তর: (খ) দামোদর

২১. দিঘা কোন সাগরের উপকূলে অবস্থিত? (ক) আরব সাগর (খ) বঙ্গোপসাগর (গ) ভারত মহাসাগর (ঘ) প্রশান্ত মহাসাগর উত্তর: (খ) বঙ্গোপসাগর

২২. ‘তাম্রলিপ্ত’ নিচের কোন শহরের প্রাচীন নাম? (ক) কলকাতা (খ) তমলুক (গ) হলদিয়া (ঘ) বিষ্ণুপুর উত্তর: (খ) তমলুক

২৩. সুন্দরবনের পশ্চিমবঙ্গের অংশটিতে মোট কয়টি দ্বীপ আছে? (ক) ১০০টি (খ) ৫৪টি (গ) ১৩৫টি (ঘ) ৮০টি উত্তর: (গ) ১৩৫টি

২৪. পশ্চিমবঙ্গের বন্দর শহর কোনটি? (ক) শিলিগুড়ি (খ) হলদিয়া (গ) বহরমপুর (ঘ) আলিপুরদুয়ার উত্তর: (খ) হলদিয়া

XXV. আলিপুরদুয়ার কোন অরণ্যের প্রবেশদ্বার? (ক) সুন্দরবন (খ) বক্সা অরণ্য (গ) গরুমারা (ঘ) বেথুয়াডহরি উত্তর: (খ) বক্সা অরণ্য

২৬. পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের মাটি কেমন? (ক) খুব উর্বর (খ) কাঁকুড়ে ও লাল (গ) পলি মাটি (ঘ) কালো মাটি উত্তর: (খ) কাঁকুড়ে ও লাল

২৭. শান্তিনিকেতন কোন জেলায় অবস্থিত? (ক) বাঁকুড়া (খ) বীরভূম (গ) বর্ধমান (ঘ) পুরুলিয়া উত্তর: (খ) বীরভূম

২৮. শিলিগুড়ি শহরটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত? (ক) তিস্তা (খ) মহানন্দা ও করলা (গ) তোর্সা (ঘ) কালজানি উত্তর: (খ) মহানন্দা ও করলা

২৯. শকুন সংরক্ষণ কেন্দ্রটি কোথায় অবস্থিত? (ক) জলদাপাড়া (খ) বক্সার বাঘবন (গ) গরুমারা (ঘ) সুন্দরবন উত্তর: (খ) বক্সার বাঘবন

৩০. মালভূমি অঞ্চলের উঁচু ঢিবি বা পাহাড়কে স্থানীয় ভাষায় কী বলে? (ক) শৃঙ্গ (খ) টিলা (গ) খাদ (ঘ) সমভূমি উত্তর: (খ) টিলা

৩১. কাজুবাদাম চাষের জন্য পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলা বিখ্যাত? (ক) মালদা (খ) পূর্ব মেদিনীপুর (গ) বীরভূম (ঘ) বাঁকুড়া উত্তর: (খ) পূর্ব মেদিনীপুর

৩২. তরাই অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য কেমন? (ক) শুকনো (খ) স্যাঁতস্যাঁতে ও উর্বর (গ) নোনা (ঘ) পাথুরে উত্তর: (খ) স্যাঁতস্যাঁতে ও উর্বর

৩৩. পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীর নাম কী? (ক) হাওড়া (খ) শিলিগুড়ি (গ) কলকাতা (ঘ) বর্ধমান উত্তর: (গ) কলকাতা

৩৪. দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে কোন পানীয়র চাষ জগদ্বিখ্যাত? (ক) কফি (খ) চা (গ) কোকো (ঘ) ডাব উত্তর: (খ) চা

৩৫. উত্তরবঙ্গের একটি বিখ্যাত নদী হলো— (ক) বিদ্যাধরী (খ) তিস্তা (গ) হলদি (ঘ) রূপনারায়ণ উত্তর: (খ) তিস্তা

৩৬. বীরভূমের বক্রেশ্বর কীসের জন্য বিখ্যাত? (ক) চা বাগান (খ) উষ্ণ প্রস্রবণ ও তাপবিদ্যুৎ (গ) সমুদ্র সৈকত (ঘ) কয়লা খনি উত্তর: (খ) উষ্ণ প্রস্রবণ ও তাপবিদ্যুৎ

৩৭. বর্ধমান জেলা কোন ফসল চাষের জন্য বিখ্যাত? (ক) চা (খ) তুলা (গ) ধান (ঘ) পাট উত্তর: (গ) ধান

৩৮. রসিক বিল পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলায় অবস্থিত? (ক) হাওড়া (খ) কোচবিহার (গ) পুরুলিয়া (ঘ) মালদা উত্তর: (খ) কোচবিহার

৩৯. দক্ষিণবঙ্গের একটি ম্যানগ্রোভ অরণ্য সমৃদ্ধ অঞ্চল হলো— (ক) তরাই (খ) রাঢ় (গ) সুন্দরবন (ঘ) বরেন্দ্রভূমি উত্তর: (গ) সুন্দরবন

৪০. শিলিগুড়ি শহরটি কোন জেলার অন্তর্ভুক্ত? (ক) জলপাইগুড়ি (খ) দার্জিলিং (গ) কোচবিহার (ঘ) আলিপুরদুয়ার উত্তর: (খ) দার্জিলিং

১.২ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ)

১. পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নদীর নাম কী?

উত্তর: গঙ্গা।

২. সুন্দরবনে কী জাতীয় অরণ্য দেখা যায়?

উত্তর: ম্যানগ্রোভ জাতীয় অরণ্য।

৩. জলপাইগুড়ির গরুমারা অরণ্য কীসের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর: একশৃঙ্গ গন্ডারের জন্য।

৪. বীরভূম জেলার সদর শহরের নাম লেখো।

উত্তর: সিউড়ি।

৫. মালদা জেলা কোন ফলের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত?

উত্তর: ফজলি আম।

৬. সীতাভোগ ও মিহিদানা কোন জেলার বিখ্যাত মিষ্টান্ন?

উত্তর: বর্ধমান।

৭. রেলের ইঞ্জিন তৈরির কারখানা কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: চিত্তরঞ্জনে।

৮. পশ্চিমবঙ্গের একটি বন্দর শহরের নাম কী?

উত্তর: হলদিয়া।

৯. হাওড়া জেলার সদর শহর কোনটি?

উত্তর: হাওড়া।

১০. সান্দাকফুর উচ্চতা কত মিটার?

উত্তর: ৩৬৩০ মিটার।

১১. তরাই অঞ্চলের মাটির রং কেমন?

উত্তর: কালো ও স্যাঁতস্যাঁতে।

১২. সুন্দরবনের প্রধান শিকারি প্রাণীর নাম কী?

উত্তর: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।

১৩. ডাওহিল থেকে কোন নদী উৎপন্ন হয়েছে?

উত্তর: মহানন্দা।

১৪. নিত্যবহ নদী কাকে বলে?

উত্তর: যে নদীতে সারা বছর জল থাকে।

১৫. শান্তিনিকেতন কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে আশ্রম বিদ্যালয় গড়ে তোলেন।

১৬. বিড়লা তারামণ্ডল কোন শহরে অবস্থিত?

উত্তর: কলকাতায়।

১৭. পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় দুটি জেলার নাম লেখো।

উত্তর: পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা।

১৮. সুন্দরবনের মাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: এই মাটি নোনা ও কাদা প্রকৃতির।

১৯. বাঁকুড়া জেলা কোন শিল্পের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর: টেরাকোটা শিল্পের জন্য।

২০. কোন নদীকে বরফগলা জলে পুষ্ট নদী বলা হয়?

উত্তর: তিস্তা ও গঙ্গা।

২১. কোন শহরে সাদা অর্কিড দেখা যায়?

উত্তর: কার্শিয়াং শহরে।

২২. ‘বাংলার দুঃখ’ কোন নদীকে বলা হতো?

উত্তর: দামোদর নদকে।

২৩. তমলুক কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

উত্তর: রূপনারায়ণ নদীর তীরে।

২৪. পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম বদ্বীপ অঞ্চল কোনটি?

উত্তর: সুন্দরবন।

২৫. দক্ষিণবঙ্গের মানুষের প্রধান জীবিকা কী?

উত্তর: চাষবাস ও মাছ ধরা।

২৬. বীরভূমের বক্রেশ্বরে কী রয়েছে?

উত্তর: উষ্ণ প্রস্রবণ ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

২৭. শিলিগুড়ি কোন ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের অন্তর্গত?

উত্তর: তরাই অঞ্চলের কাছাকাছি সমভূমি।

২৮. আলিপুরদুয়ার কোন বনের প্রবেশদ্বার?

উত্তর: বক্সা অরণ্যের।

২৯. মেদিনীপুর শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

উত্তর: কংসাবতী নদীর তীরে。

৩০. কাজুবাদাম চাষ কোথায় ভালো হয়?

উত্তর: দিঘা ও কাঁথি সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায়।

৩১. বরফগলা জলে পুষ্ট নদীতে সারা বছর জল থাকে কেন?

উত্তর: কারণ পাহাড়ের বরফ গলে সারাবছর জল যোগান দেয়।

৩২. কালিম্পং জেলার সদর শহর কোনটি?

উত্তর: কালিম্পং。

৩৩. আসানসোল কোন খনিজ সম্পদের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর: কয়লা।

৩৪. পশ্চিমবঙ্গের সমভূমি অঞ্চলের উচ্চতা কেমন?

উত্তর: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০-১৫ মিটার।

৩৫. ‘গৌর’ কী?

উত্তর: ভারতীয় বাইসনের স্থানীয় নাম।

৩৬. ডায়মন্ড হারবারে কীসের ধ্বংসাবশেষ আছে?

উত্তর: চিংড়িখালি দুর্গের।

৩৭. ভাগীরথী নদী কোন জেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?

উত্তর: মুর্শিদাবাদ।

৩৮. বারুইপুর কোন ফলের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর: পেয়ারা।

৩৯. আত্রেয়ী নদী কোন শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে?

উত্তর: বালুরঘাট।

৪০. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: কলকাতায়।

১.৩ সংক্ষিপ্ত ও বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর (LAQ)

১. গঙ্গা নদীর প্রবাহপথ বর্ণনা করো:

উত্তর: গঙ্গা নদী উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। মুর্শিদাবাদের মিঠিপুরের কাছে নদীটি দুভাগে ভাগ হয়েছে। প্রধান শাখাটি ‘পদ্মা’ নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং অন্য শাখাটি ‘ভাগীরথী-হুগলি’ নামে পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে।

২. সুন্দরবন অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য লেখো:

উত্তর: সুন্দরবন অঞ্চলে ভূমির ঢাল খুব কম এবং মাটি ঈষৎ নোনা ও কাদা যুক্ত। এখানে শ্বাসমূল ও ঠেসমূলযুক্ত ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ (সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া) জন্মায়। শ্বাসমূল বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে সাহায্য করে এবং ঠেসমূল গাছকে নরম কাদায় সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে।

৩. রাঢ় ও তরাই অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য তুলনা করো:

উত্তর: রাঢ় অঞ্চলের মাটি সাধারণত দোআঁশ ও এটেল প্রকৃতির এবং খুব উর্বর। অন্যদিকে, তরাই অঞ্চলের মাটি পাহাড় থেকে আসা পলি, বালি ও কাঁকর জমে তৈরি হয়, যা স্যাঁতস্যাঁতে ও কালো রঙের হয়। তরাই মাটি চা চাষের জন্য খুব উপযোগী।

৪. নদীমাতৃক সভ্যতা বলতে কী বোঝো?

উত্তর: প্রাচীনকালে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানীয় জল, মাছ ও যাতায়াতের সুবিধার কারণে নদীর তীরেই বড় বড় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। নদী ছিল সেই সভ্যতার মানুষের কাছে মায়ের মতো, তাই একে নদীমাতৃক সভ্যতা বলা হয়। যেমন— হরপ্পা সভ্যতা।

৫. তরাই অঞ্চলে চা চাষ ভালো হয় কেন?

উত্তর: তরাই অঞ্চলের মাটি পাহাড়ি নদী থেকে আসা পলি ও বালিতে তৈরি যা স্যাঁতস্যাঁতে। এই অঞ্চলের জমি কিছুটা ঢালু হওয়ায় গাছের গোড়ায় জল জমে থাকে না। চা চাষের জন্য জল ও ঢালু জমি উভয়ই প্রয়োজন হওয়ায় এখানে ভালো চা উৎপন্ন হয়।

৬. পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি সংক্ষেপে লেখো:

উত্তর: রাঢ় অঞ্চলটি পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম দিকের মালভূমি ও গঙ্গার বদ্বীপ অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এই অঞ্চলের জমি সামান্য ঢেউ খেলানো এবং পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঢালু। এখানকার মাটি উর্বর দোআঁশ ও লাল ল্যাটেরাইট প্রকৃতির।

৭. পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য লেখো:

উত্তর: এই অঞ্চলের মাটি মূলত লাল রঙের এবং কাঁকুড়ে। মাটিতে লোহার ভাগ বেশি থাকায় রং লাল হয়। মাটি খুব একটা উর্বর নয় এবং জল ধারণ ক্ষমতাও কম।

৮. নিত্যবহ নদী বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যেসব নদী সুউচ্চ পাহাড়ের বরফগলা জলে পুষ্ট এবং যেখানে সারা বছর জলের প্রবাহ থাকে, তাদের নিত্যবহ নদী বলে। যেমন— গঙ্গা ও তিস্তা।

৯. পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিকের পার্বত্য অঞ্চলের বর্ণনা দাও:

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা অবস্থিত। এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি খাড়া ও অসমতল। এখানকার প্রধান নদী তিস্তা। পাহাড়ি ঢালে ধাপ কেটে চাষ করা হয় এবং চা ও সিঙ্কোনা চাষ এখানে খুব বিখ্যাত।

১০. সুন্দরবনের মানুষের জীবিকা সম্পর্কে লেখো:

উত্তর: এখানকার মানুষ কৃষিকাজের পাশাপাশি মাছ ও কাঁকড়া ধরা, নদী থেকে মীন সংগ্রহ এবং জঙ্গল থেকে মধু ও কাঠ সংগ্রহের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

১১. গঙ্গাকে কেন পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নদী বলা হয়?

উত্তর: গঙ্গা পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে এবং এর অববাহিকায় কৃষিকাজ, শিল্প ও সভ্যতা গড়ে উঠেছে। এই নদীটি কৃষি ও যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১২. তাম্রলিপ্ত শহরটি কেন বিখ্যাত ছিল?

উত্তর: প্রাচীনকালে তমলুক বা তাম্রলিপ্ত ছিল একটি প্রধান বন্দর। এখান থেকেই দূর দেশে বাণিজ্য হতো। বর্তমানে এটি একটি ঐতিহাসিক শহর হিসেবে পরিচিত।

১৩. শান্তিনিকেতন আশ্রমের গুরুত্ব আলোচনা করো:

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বীরভূম জেলার বোলপুরে শান্তিনিকেতন আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে প্রকৃতির খোলা হাওয়ায় শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে এটি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় নামে সারা বিশ্বে পরিচিত।

১৪. পশ্চিমবঙ্গের ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী কয়টি অঞ্চলে ভাগ করা যায়?

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গকে মূলত সাতটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়: উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল, তরাই অঞ্চল, উত্তরের সমভূমি, পশ্চিমের মালভূমি, রাঢ় অঞ্চল, গাঙ্গেয় বদ্বীপ এবং উপকূলীয় সমভূমি।

১৫. শিলিগুড়ি শহরকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয় কেন?

উত্তর: কারণ উত্তরবঙ্গের পাহাড় বা সমভূমি—যেকোনো স্থানে যেতে হলে শিলিগুড়ি শহরের ওপর দিয়েই যেতে হয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও বাণিজ্য কেন্দ্র।

১৬. বক্সা অরণ্যের বৈশিষ্ট্য কী কী?

উত্তর: এটি আলিপুরদুয়ার জেলায় অবস্থিত। এখানে বিখ্যাত বক্সা দুর্গ ও শকুন সংরক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এই অরণ্য জীববৈচিত্র্যে ভরপুর।

১৭. ল্যাটেরাইট মাটি চাষের উপযোগী নয় কেন?

উত্তর: ল্যাটেরাইট মাটি খুব শক্ত ও কাঁকুড়ে হয় এবং এতে পুষ্টি উপাদান কম থাকে। এই মাটির জল ধারণ ক্ষমতা খুব কম হওয়ায় চাষবাস করা কঠিন হয়।

১৮. মুর্শিদাবাদ শহরটি কোন কোন শিল্পের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর: মুর্শিদাবাদ শহর রেশম শিল্প ও পিতলের বাসন তৈরির জন্য প্রাচীনকাল থেকেই বিখ্যাত।

১৯. হলদিয়া শহরটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব কী?

উত্তর: হলদিয়া পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বন্দর কেন্দ্রিক শিল্প শহর। এখানে খনিজ তেল শোধনাগার এবং রাসায়নিক সার তৈরির শিল্প গড়ে উঠেছে।

২০. পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে কেন বসতি কম?

উত্তর: সুন্দরবনে নোনা জল, ঘন অরণ্য এবং বন্য প্রাণীদের উপদ্রব বেশি。 এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানে জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন।

২১. গঙ্গার প্রধান শাখা ‘পদ্মা’ সম্পর্কে লেখো:

উত্তর: গঙ্গা মুর্শিদাবাদের কাছে ভাগ হওয়ার পর প্রধান ধারাটি পদ্মা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এটি ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিশে বিশাল বদ্বীপ তৈরি করে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।

২২. রাঢ় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কয়েকটি নদীর নাম লেখো:

উত্তর: এই অঞ্চলের প্রধান নদীগুলো হলো— দামোদর, অজয়, ময়ূরাক্ষী, দ্বারকেশ্বর এবং শিলাবতী।

২৩. দার্জিলিং জেলায় চা চাষের অনুকূল পরিবেশ কেন তৈরি হয়েছে?

উত্তর: পাহাড়ের ঢালু জমি, প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং জলনিকাশি ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় দার্জিলিং জেলা চা চাষের জন্য বিশ্বসেরা হয়ে উঠেছে।

২৪. চিত্তরঞ্জন শহরটি কেন বিখ্যাত?

উত্তর: চিত্তরঞ্জন রেলের ইঞ্জিন তৈরির কারখানার জন্য সারা ভারতে বিখ্যাত। এটি পশ্চিম বর্ধমান জেলায় অবস্থিত।

২৫. জলচক্র নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কীভাবে সাহায্য করে?

উত্তর: সমুদ্রের জল বাষ্প হয়ে মেঘ তৈরি করে এবং সেই মেঘ থেকে বৃষ্টি বা বরফ হয়ে জল আবার নদীতে ফিরে আসে। এই চক্রাকার পদ্ধতির ফলেই নদীতে জলের প্রবাহ বজায় থাকে এবং জীবন বেঁচে থাকে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url