Class Seven WBBSE Geography 'নদী (River) all important question answer

সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল: 'নদী' অধ্যায়ের পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ, SAQ, LAQ)



সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল পাঠ্যক্রমের 'নদী' অধ্যায় থেকে পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৪০টি MCQ, ৪০টি SAQ এবং ৪০টি LAQ নিচে উত্তরসহ দেওয়া হলো।



বিভাগ ১: ৪০টি বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)

১. নদী যেখান থেকে সৃষ্টি হয় তাকে কী বলে?

(গ) উৎস

২. গঙ্গা নদীর মোহনা কোথায় অবস্থিত?

(খ) বঙ্গোপসাগর

৩. পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী কোনটি?

(ঘ) নীলনদ

৪. আমাজন নদী কোন মহাদেশে অবস্থিত?

(ক) দক্ষিণ আমেরিকা

৫. ভারতের একটি আদর্শ নদী হলো—

(ক) গঙ্গা

৬. উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর খাতকে কী বলে?

(ক) নদী উপত্যকা

৭. নদীর কোন প্রবাহে গিরিখাত দেখা যায়?

(ক) উচ্চপ্রবাহ

৮. শুষ্ক অঞ্চলের গভীর গিরিখাতকে কী বলে?

(খ) ক্যানিয়ন

৯. নদীর গতিপথ আঁকাবাঁকা হলে তাকে কী বলে?

(গ) মিয়েন্ডার

১০. ঘোড়ার খুরের মতো দেখতে হ্রদকে কী বলা হয়?

(ঘ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ

১১. পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ কোনটি?

(ক) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপ

১২. নদী প্রবাহ পরিমাপের একক কী?

(খ) কিউসেক

১৩. ভারতের একটি অন্তর্বাহিনী নদী হলো—

(ঘ) লুনি

১৪. এশিয়ার দীর্ঘতম নদী কোনটি?

(ক) ইয়াংসি কিয়াং

১৫. একটি আন্তর্জাতিক নদীর নাম হলো—

(খ) সিন্ধু

১৬. জলপ্রপাত নদীর কোন কাজের ফলে সৃষ্টি হয়?

(ক) ক্ষয়কাজ

১৭. নদীর নিম্নপ্রবাহকে কার সঙ্গে তুলনা করা হয়?

(ক) বৃদ্ধ

১৮. দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানকে কী বলে?

(খ) দোয়াব

১৯. হিমালয়ের কোন গুহা থেকে গঙ্গার উৎপত্তি?

(গ) গোমুখ

২০. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী কোনটি?

(ক) আমাজন

২১. নদীর শক্তি হ্রাস পেলে কী বৃদ্ধি পায়?

(গ) সঞ্চয়

২২. ব-দ্বীপ নদীর কোন প্রবাহে গঠিত হয়?

(ক) নিম্নপ্রবাহ

২৩. 'I' আকৃতির উপত্যকা দেখা যায় কোন অঞ্চলে?

(খ) পার্বত্য অঞ্চলে

২৪. নদীর মোহনা চওড়া ও ফানেলের মতো হলে তাকে কী বলে?

(গ) খাঁড়ি

২৫. উচ্চপ্রবাহে নদীর প্রধান কাজ কী?

(খ) ক্ষয়

২৬. গঙ্গার একটি প্রধান উপনদী হলো—

(গ) যমুনা

২৭. নদীর কোন প্রবাহে প্লাবনভূমি সৃষ্টি হয়?

(খ) নিম্নপ্রবাহ

২৮. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপ কোনটি?

(ক) মাজুলি

২৯. মন্থকূপ বা পোটহোল কোথায় দেখা যায়?

(খ) নদীর তলদেশে

৩০. কোন পাথরের উপর দিয়ে নদী প্রবাহিত হলে জলপ্রপাত সৃষ্টি সহজ হয়?

(গ) কঠিন ও নরম পাথর

৩১. নীলনদের দৈর্ঘ্য কত কিমি?

(ঘ) ৬৬৫০ কিমি

৩২. কোন রঙে মানচিত্রে নিত্যবহ নদী দেখানো হয়?

(খ) নীল

৩৩. ইউরোপের দীর্ঘতম নদী কোনটি?

(খ) ভলগা

৩৪. নদীর কোন গতিতে মিয়েন্ডার সৃষ্টি হয়?

(খ) মধ্যগতি

৩৫. পার্বত্য অঞ্চলে নদীর কোন ক্ষয় বেশি হয়?

(ক) নিম্নক্ষয়

৩৬. 'V' আকৃতির উপত্যকা কোন প্রবাহে দেখা যায়?

(ক) উচ্চপ্রবাহ

৩৭. কোনটি নদীর বহন কাজের উদাহরণ?

(খ) নুড়ি-পাথর বয়ে চলা

৩৮. দক্ষিণ আফ্রিকার তৃণভূমির নাম কী?

(ক) ভেলড

৩৯. পৃথিবীর ছাদ বলা হয় কোন মালভূমিকে?

(গ) পামির

৪০. মোহনায় বদ্বীপ নেই এমন একটি নদী হলো—

(খ) নর্মদা


বিভাগ ২: ৪০টি বিস্তারিত সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (SAQ)

১. ধারণ অববাহিকা বলতে কী বোঝো?

পার্বত্য অঞ্চলের যে অংশ থেকে বরফগলা বা বৃষ্টির জল ছোট ছোট জলধারার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে মূল নদীটি সৃষ্টি করে, তাকে ধারণ অববাহিকা বলে।

২. জলবিভাজিকা বলতে কী বোঝায়?

পার্বত্য অঞ্চলের যে উঁচু ভূভাগ বা পর্বতের চূড়া দুটি নদী অববাহিকাকে পৃথক করে এবং বৃষ্টির জলকে বিভিন্ন দিকে ভাগ করে দেয়, তাকে জলবিভাজিকা বলে।

৩. নিত্যবহ নদী কাকে বলে?

উঁচু পার্বত্য অঞ্চলের বরফগলা জলে পুষ্ট যে সব নদীতে সারা বছর জল থাকে, তাদের নিত্যবহ নদী বলা হয়, যেমন—গঙ্গা, সিন্ধু।

৪. অনিত্যবহ নদী কী?

যে সব নদী সাধারণত মালভূমি অঞ্চলে বৃষ্টির জলে পুষ্ট এবং যেখানে সারা বছর জল থাকে না, তাদের অনিত্যবহ নদী বলে।

৫. উপনদী কাকে বলে?

অন্য কোনো উৎস থেকে সৃষ্টি হয়ে যে ছোট নদী মূল নদীতে এসে মেশে, তাকে উপনদী বলে, যেমন—যমুনা গঙ্গার উপনদী।

৬. শাখানদী বলতে কী বোঝায়?

মূল নদী থেকে যে নদী শাখার মতো বেরিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও গিয়ে মেশে, তাকে শাখানদী বলে, যেমন—ভাগীরথী-হুগলি।

৭. আন্তর্জাতিক নদী কাকে বলে?

যে নদী একাধিক দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় তাকে আন্তর্জাতিক নদী বলে, যেমন—গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র।

৮. অন্তর্বাহিনী নদী কী?

যে নদী কোনো দেশের মধ্যে উৎপন্ন হয়ে ওই দেশেরই কোনো জলাশয় বা হ্রদে গিয়ে মেশে, তাকে অন্তর্বাহিনী নদী বলে, যেমন—লুনি।

৯. নদী অববাহিকা কাকে বলে?

প্রধান নদী তার উপনদী ও শাখানদীসহ যে অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে ওই নদীর অববাহিকা বলে।

১০. নদী উপত্যকা বলতে কী বোঝো?

উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদী যে খাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে নদী উপত্যকা বলে।

১১. আদর্শ নদী কাকে বলে?

যে নদীতে উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন—এই তিনটি গতিই স্পষ্টভাবে দেখা যায় তাকে আদর্শ নদী বলে, যেমন—গঙ্গা।

১২. গঙ্গার উৎস ও মোহনা কোথায়?

গঙ্গার উৎস হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা এবং মোহনা বঙ্গোপসাগর।

১৩. ষষ্ঠ ঘাতের সূত্র কী?

নদীর গতিবেগ ২ গুণ বাড়লে তার বহন ক্ষমতা ৬৪ গুণ বেড়ে যায়, একেই ষষ্ঠ ঘাতের সূত্র বলে।

১৪. নদী দূষণের দুটি কারণ লেখো।

শহর ও শিল্পাঞ্চলের বিষাক্ত বর্জ্য জল নদীতে মেশা এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ধুয়ে নদীতে আসা।

১৫. জলপ্রপাত কীভাবে সৃষ্টি হয়?

নদীর পথে কঠিন ও নরম পাথর থাকলে নরম পাথর বেশি ক্ষয়ে নিচু হয়ে যায় এবং জল উঁচু থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে জলপ্রপাত সৃষ্টি করে।

১৬. গিরিখাত ও ক্যানিয়নের প্রধান পার্থক্য কী?

গিরিখাত বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে সৃষ্ট 'V' আকৃতির উপত্যকা, অন্যদিকে ক্যানিয়ন শুষ্ক অঞ্চলে সৃষ্ট 'I' আকৃতির গভীর উপত্যকা।

১৭. মিয়েন্ডার কাকে বলে?

নদীর মধ্যপ্রবাহে ভূমির ঢাল কমে যাওয়ায় নদী যে অত্যন্ত আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়, তাকে মিয়েন্ডার বলে।

১৮. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ কীভাবে গঠিত হয়?

নদীর বাঁকের পরিমাণ বাড়লে নদী সোজা পথে চলতে শুরু করে এবং পরিত্যক্ত বাঁকা অংশটি ঘোড়ার খুরের মতো হ্রদ তৈরি করে।

১৯. প্লাবনভূমি কী?

নিম্নপ্রবাহে বন্যার সময় নদীর দুপাশে পলি জমে যে উর্বর সমভূমি সৃষ্টি হয় তাকে প্লাবনভূমি বলে।

২০. ব-দ্বীপ কী?

নদীর মোহনায় পলি জমে গ্রিক অক্ষর ডেল্টা (Δ) বা মাত্রাহীন 'ব'-এর মতো যে দ্বীপ তৈরি হয় তাকে ব-দ্বীপ বলে।

২১. নদীর শক্তি কোন তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?

জলের পরিমাণ, জলের গতিবেগ এবং ভূমির ঢালের ওপর নদীর শক্তি নির্ভর করে।

২২. মন্থকূপ বা পোটহোল কী?

পার্বত্য অঞ্চলে নদীর তলদেশে পাথরের টুকরোর ঘর্ষণে যে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয় তাকে মন্থকূপ বলে।

২৩. প্রপাতকূপ বা প্লাঞ্জ পুল কী?

জলপ্রপাতের নিচে জল ও পাথরের আঘাতে যে বড় গর্তের সৃষ্টি হয় তাকে প্রপাতকূপ বলে।

২৪. দোয়াব বলতে কী বোঝায়?

দুটি নদীর মধ্যবর্তী উর্বর স্থলভাগকে দোয়াব বলা হয়।

২৫. নদী উপত্যকা কেন 'V' আকৃতির হয়?

পার্বত্য অঞ্চলে নদী গভীর নিম্নক্ষয় করার ফলে এবং পার্শ্ববর্তী ভূমির ধস ও বৃষ্টির জলে পার্শ্বক্ষয়ের ফলে উপত্যকাটি 'V' আকৃতির হয়।

২৬. নদীর প্রধান তিনটি কাজ কী কী?

ক্ষয়কাজ, বহনকাজ এবং সঞ্চয়কাজ।

২৭. মাজুলি নদী দ্বীপ কোথায় অবস্থিত?

অসমের ব্রহ্মপুত্র নদীতে মাজুলি দ্বীপ অবস্থিত, যা ভারতের বৃহত্তম নদী দ্বীপ।

২৮. খাঁড়ি কাকে বলে?

নদীর চওড়া ও ফানেলের মতো মোহনা যেখানে জোয়ারের জল ঢোকে তাকে খাঁড়ি বলে।

২৯. হুগলি নদীর গুরুত্ব কী?

এটি পানীয় জল সরবরাহ, কৃষি সেচ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

৩০. গঙ্গার একটি প্রধান উপনদী ও শাখানদীর নাম লেখো।

উপনদী হলো যমুনা এবং শাখানদী হলো ভাগীরথী-হুগলি।

৩১. নদী মোহনা বলতে কী বোঝায়?

নদী প্রবাহিত হয়ে যেখানে কোনো সাগর বা হ্রদে গিয়ে মেশে তাকে মোহনা বলে।

৩২. জলবিভাজিকা ক্ষয়ে গেলে কী হবে?

জলবিভাজিকা ক্ষয়ে গেলে দুটি আলাদা নদীর অববাহিকা মিলে যেতে পারে এবং এক নদীর জল অন্য নদীতে চলে যায়।

৩৩. মালভূমিকে টেবিল ল্যান্ড বলা হয় কেন?

মালভূমির ওপরভাগ সমতল ও চওড়া এবং পার্শ্বভাগ খাড়া হয় বলে একে টেবিল ল্যান্ড বলে।

৩৪. জলপ্রপাতের পশ্চাৎপসারণ বলতে কী বোঝো?

নরম শিলা দ্রুত ক্ষয়ে কঠিন শিলা ভেঙে পড়লে জলপ্রপাতটি ক্রমাগত উৎসের দিকে পিছিয়ে যায়।

৩৫. নদী মোহনায় ব-দ্বীপ না থাকার একটি কারণ লেখো।

মোহনায় সমুদ্রের গভীরতা খুব বেশি হলে বা প্রবল স্রোত থাকলে ব-দ্বীপ গঠিত হয় না।

৩৬. পোটহোল ড্রিলিং কী?

নদীর তলদেশে বাহিত পাথর ঘোরে এবং গর্ত তৈরি করে, এই প্রক্রিয়াকে পোটহোল ড্রিলিং বলে।

৩৭. ষষ্ঠ ঘাতের সূত্রের আবিষ্কারক কে?

বিজ্ঞানী ডব্লিউ. হপকিন্স ১৮৪২ সালে এই সূত্রটি দিয়েছিলেন।

৩৮. নদীর নিম্নপ্রবাহে কোন কাজ বেশি হয়?

নদীর নিম্নপ্রবাহে প্রধানত সঞ্চয় কাজ হয়।

৩৯. মিশরকে নীলনদের দান বলা হয় কেন?

নীলনদের বন্যার পলি জমিকে উর্বর করে এবং জলের যোগান দিয়ে মিশরীয় সভ্যতা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

৪০. জলচক্র বলতে কী বোঝো?

পৃথিবীর জলভাগ থেকে বাষ্পীভবন ও পরে বৃষ্টিরূপে পুনরায় জলভাগে ফিরে আসার চক্রাকার আবর্তনকে জলচক্র বলে।


বিভাগ ৩: ৪০টি দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্ন (LAQ)

১. নদীর উচ্চপ্রবাহে বা পার্বত্য প্রবাহে নদী কী কী কাজ করে? এই প্রবাহে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলি বর্ণনা করো।

নদীর উচ্চপ্রবাহে ভূমির ঢাল খুব বেশি থাকে বলে নদীর শক্তি ও গতিবেগও বেশি হয়; তাই এই স্তরে নদীর প্রধান কাজ হলো ক্ষয় এবং বহন। প্রবল নিম্নক্ষয়ের ফলে এই অঞ্চলে সরু ও গভীর 'V' আকৃতির উপত্যকা বা গিরিখাত, বৃষ্টিহীন শুষ্ক অঞ্চলে অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ 'I' আকৃতির ক্যানিয়ন এবং নদীর পথে শিলার অসম বিন্যাসের কারণে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়।

২. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ কীভাবে গঠিত হয় তা চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।

নদীর মধ্য ও নিম্ন প্রবাহে ভূমির ঢাল কমে যাওয়ায় নদী অত্যন্ত আঁকাবাঁকা পথে বা মিয়েন্ডারে প্রবাহিত হয়। বাঁকের পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে নদী তার বাঁকা পথ ছেড়ে সোজা পথে চলতে শুরু করে এবং পরিত্যক্ত বাঁকা অংশটি মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন এই জলাশয়টি দেখতে ঘোড়ার খুরের মতো হয় বলে একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলা হয়।

৩. ব-দ্বীপ গঠনের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ বা শর্তগুলি আলোচনা করো।

সব নদীর মোহনায় ব-দ্বীপ গড়ে ওঠে না; এর জন্য কিছু শর্ত প্রয়োজন, যেমন—নদীতে বাহিত পলি, বালি ও নুড়ির পরিমাণ অনেক বেশি হতে হবে। মোহনায় সমুদ্রের গভীরতা কম হওয়া প্রয়োজন এবং সেখানে প্রবল জোয়ার-ভাটা বা সমুদ্রস্রোত থাকা চলবে না, যাতে পলি থিতিয়ে দ্বীপ তৈরি করতে পারে। এছাড়া দীর্ঘ নদীপথ এবং অসংখ্য উপনদীর উপস্থিতি পলি সঞ্চয়ে সাহায্য করে।

৪. মানুষের জীবনে নদীর ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

নদী প্রাচীনকাল থেকেই সভ্যতার ধারক এবং এটি পানীয় জলের প্রধান উৎস ও কৃষিকাজে সেচের জলের যোগান দেয়। নদীপথে পণ্য পরিবহন সাশ্রয়ী হয় এবং নদীর মোহনা মৎস্য চাষের উপযোগী। তবে মানুষের বিভিন্ন কাজে নদী আজ বিপন্ন; বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা নষ্ট হচ্ছে এবং শিল্প ও শহরের বর্জ্য জল নদীর জলকে বিষাক্ত করে তুলছে।

৫. নদীর উচ্চগতি, মধ্যগতি ও নিম্নগতির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো।

উচ্চগতি পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায় যেখানে প্রধান কাজ ক্ষয়; এখানে উপত্যকা গভীর ও সংকীর্ণ হয়। মধ্যগতি সমভূমি বা মালভূমি অঞ্চলে দেখা যায় যেখানে প্রধান কাজ বহন ও সঞ্চয়; এখানে মিয়েন্ডার ও অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ গঠিত হয়। নিম্নগতি মোহনার কাছে দেখা যায় যেখানে কেবল সঞ্চয় কাজ হয় এবং ব-দ্বীপ ও প্লাবনভূমি সৃষ্টি হয়।

৬. গঙ্গা নদীকে কেন একটি 'আদর্শ নদী' বলা হয়?

যে নদীর গতিপথে উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন—এই তিনটি প্রবাহই স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়, তাকে আদর্শ নদী বলে। গঙ্গা নদীর ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ডের গোমুখ থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত উচ্চগতি, হরিদ্বার থেকে পশ্চিমবঙ্গের মিঠিপুর পর্যন্ত মধ্যগতি এবং মিঠিপুর থেকে মোহনা পর্যন্ত নিম্নগতি স্পষ্টভাবে বিদ্যমান থাকায় একে আদর্শ নদী বলা হয়।

৭. নদী দূষণের প্রধান কারণগুলি এবং এর ফলাফলগুলি আলোচনা করো।

শহর ও শিল্পাঞ্চলের বিষাক্ত বর্জ্য এবং কৃষিজমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলের সঙ্গে ধুয়ে নদীতে মিশে জলকে দূষিত করে। এর ফলে নদীর জল পানের অযোগ্য হয়ে পড়ছে, মাছ ও জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে এবং নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৮. গিরিখাত ও ক্যানিয়নের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।

গিরিখাত সাধারণত বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে তৈরি হয় এবং এটি দেখতে ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো হয়। অন্যদিকে, ক্যানিয়ন সৃষ্টি হয় শুষ্ক বা মরুপ্রায় অঞ্চলে, যেখানে পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় অনেক বেশি হয়; ফলে এটি অত্যন্ত গভীর, সংকীর্ণ এবং ইংরেজি 'I' আকৃতির মতো দেখতে হয়।

৯. নদীর বহন ক্ষমতার ওপর 'ষষ্ঠ ঘাতের সূত্র' (Sixth Power Law) কীভাবে কাজ করে?

নদীর বহন ক্ষমতা তার গতিবেগের ওপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞানী ডব্লিউ. হপকিন্সের মতে, নদীর জলের গতিবেগ যদি কোনো কারণে ২ গুণ বৃদ্ধি পায়, তবে তার পদার্থ বহন করার ক্ষমতা বা শক্তি ৬৪ গুণ (২-এর ৬ ঘাত) বেড়ে যায়। একেই ষষ্ঠ ঘাতের সূত্র বলা হয়।

১০. জলপ্রপাত সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো। এর পশ্চাৎপসারণ বলতে কী বোঝো?

নদীর পথে কঠিন ও কোমল শিলা স্তরে স্তরে থাকলে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়ে নিচু হয়ে যায় এবং জল উঁচু থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে জলপ্রপাত সৃষ্টি করে। জলপ্রপাতের নিচে জল ও পাথরের আঘাতে প্রপাতকূপ তৈরি হয় এবং নরম শিলা ক্ষয়ে ওপরের কঠিন শিলা ভেঙে পড়লে জলপ্রপাতটি ক্রমাগত উৎসের দিকে পিছিয়ে যায়, একেই জলপ্রপাতের পশ্চাৎপসারণ বলে।

১১. প্লাবনভূমি ও স্বাভাবিক বাঁধ (Levee) কীভাবে সৃষ্টি হয়?

নদীর নিম্নপ্রবাহে ঢাল কমে যাওয়ায় পলি জমে নদী খাত অগভীব হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল উপচে বন্যার সৃষ্টি হয় এবং নদীর দুপাশের বিস্তীর্ণ জমিতে পলি সঞ্চিত হয়ে উর্বর প্লাবনভূমি তৈরি করে। নদীর একদম পাড়ে বড় দানার পলি জমে উঁচু শৈলশিরার মতো যে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়, তাকে স্বাভাবিক বাঁধ বা লেভি বলে।

১২. সব নদীর মোহনায় ব-দ্বীপ গড়ে ওঠে না কেন? উদাহরণসহ আলোচনা করো।

মোহনায় ব-দ্বীপ না গড়ে ওঠার প্রধান কারণ হলো—সমুদ্রের প্রবল স্রোত বা জোয়ার-ভাটা যা পলিকে জমতে বাধা দেয়। এছাড়া নদী ছোট হলে পলির যোগান কম থাকে এবং মোহনায় সমুদ্রের গভীরতা খুব বেশি হলে পলি গভীরে তলিয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, আমাজন এবং ভারতের নর্মদা ও তাপ্তী নদীর মোহনায় ব-দ্বীপ নেই।

১৩. নদীর সঞ্চয় কাজের জন্য কী কী ভৌগোলিক অনুকূল অবস্থা থাকা প্রয়োজন?

নদীর সঞ্চয় কাজের প্রধান শর্ত হলো নদীর গতিবেগ ও শক্তি হ্রাস পাওয়া। ভূমির ঢাল কমে গেলে, নদীর জলের পরিমাণ কমে গেলে কিংবা বাহিত পলির বোঝা (Load) অনেক বেড়ে গেলে নদী সঞ্চয় শুরু করে। নদীর মোহনা অঞ্চলে সমুদ্রের বাধা এবং ধীর স্রোত সঞ্চয় কাজের জন্য উপযোগী।

১৪. নদী উপত্যকা ও নদী অববাহিকার মধ্যে পার্থক্যগুলি সংক্ষেপে লেখো।

নদী উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত যে খাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে নদী উপত্যকা বলে। অন্যদিকে, একটি প্রধান নদী তার অসংখ্য উপনদী ও শাখানদীসহ যে বিশাল অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং জল সংগ্রহ করে, তাকে ওই নদীর অববাহিকা বলে। উপত্যকা অববাহিকার একটি ছোট অংশ মাত্র।

১৫. নদীর শক্তি কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?

নদীর শক্তি মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর নির্ভর করে— জলের পরিমাণ, জলের গতিবেগ এবং ভূমির ঢাল। নদীর পথে জলের পরিমাণ যত বেশি হবে এবং ভূমির ঢাল যত খাড়া হবে, নদীর শক্তি ও কাজের ক্ষমতা তত বাড়বে। এছাড়া বাহিত পদার্থের পরিমাণ বেড়ে গেলে নদীর শক্তি বা গতিবেগ কিছুটা হ্রাস পায়।

১৬. নদী ও প্রাচীন সভ্যতার সম্পর্ক আলোচনা করো।

পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতাগুলি যেমন—মিশরীয় (নীল নদ), সুমেরীয় (টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস), সিন্ধু (সিন্ধু নদ) এবং চৈনিক (হোয়াংহো) সভ্যতা নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল। নদী পানীয় জল সরবরাহ করত, উর্বর পলিতে কৃষিকাজ সহজ হতো এবং যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে কাজ করত বলেই নদীর ধারে মানব বসতি নিবিড় হয়েছে।

১৭. ধারণ অববাহিকা ও জলবিভাজিকা কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত?

উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে অসংখ্য ছোট ছোট জলধারার মাধ্যমে নদী জল সংগ্রহ করে একটি মূল নদী তৈরি করে; এই অঞ্চলটি হলো ধারণ অববাহিকা। দুটি আলাদা নদী অববাহিকা বা ধারণ অববাহিকাকে যে উঁচু পাহাড় বা ভূভাগ পৃথক করে রাখে, তাকে জলবিভাজিকা বলে। জলবিভাজিকা বৃষ্টির জলকে দুই ঢালে ভাগ করে দিয়ে আলাদা নদী বিন্যাস তৈরি করে।

১৮. মিয়েন্ডার বা নদী-বাঁক বলতে কী বোঝায়? এটি কেন তৈরি হয়?

নদীর মধ্যপ্রবাহে ভূমির ঢাল কমে যাওয়ায় নদী অত্যন্ত আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়, যাকে মিয়েন্ডার বলে। তুরস্কের আঁকাবাঁকা নদী 'মেন্ডারেস'-এর নামানুসারে এই নামকরণ হয়েছে। নদীর পথে কোনো বাধা এলে বা ঢাল কমে গেলে নদী সরাসরি না চলে সাপের মতো এঁকেবেঁকে অগ্রসর হয়।

১৯. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী অববাহিকা আমাজন সম্পর্কে বিস্তারিত লেখো।

দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর অববাহিকা আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম। এই অববাহিকা ঘন চিরহরিৎ অরণ্যে ঢাকা এবং এখানে সারাবছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। আমাজন নদীর মোহনায় কোনো ব-দ্বীপ নেই কারণ এই নদীর মোহনা অত্যন্ত চওড়া এবং সমুদ্রের স্রোত খুব প্রবল হওয়ার ফলে পলি জমে থাকতে পারে না।

২০. নদী দূষণ প্রতিরোধের পাঁচটি কার্যকর উপায় আলোচনা করো।

নদী দূষণ রোধে শহর ও শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য জল পরিশ্রুত বা শোধন করে নদীতে ফেলা উচিত। কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। প্লাস্টিক বা পলিথিন জাতীয় দ্রব্য নদীতে ফেলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এছাড়া নদী তীরের সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং সরকারি আইনের প্রয়োগ দূষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

২১. নদীর তিনটি কাজের (ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয়) প্রক্রিয়াগুলি বর্ণনা করো।

নদী অবঘর্ষ, দ্রবণ ও ঘর্ষণ প্রক্রিয়ায় ক্ষয় কাজ সম্পন্ন করে। বহন কাজ সম্পন্ন হয় দ্রবণ, ভাসমান, লম্ফদান ও টান প্রক্রিয়ায়। যখন নদীর গতিবেগ কমে যায়, তখন বাহিত পদার্থগুলি নদী গর্ভে বা পাশে থিতিয়ে পড়ে সঞ্চয় কাজ সম্পন্ন হয়।

২২. উপনদী ও শাখানদীর মধ্যে পার্থক্য করো।

অন্য উৎস থেকে সৃষ্টি হয়ে যে নদী মূল নদীতে এসে মেশে, তাকে উপনদী বলে, যেমন—যমুনা। অন্যদিকে, মূল নদী থেকে যে নদী শাখার মতো বেরিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও মিশে যায়, তাকে শাখানদী বলে, যেমন—ভাগীরথী-হুগলী। উপনদী উচ্চগতিতে এবং শাখানদী নিম্নগতিতে বেশি দেখা যায়।

২৩. জলবিভাজিকা ক্ষয় হয়ে গেলে কী কী ভৌগোলিক সমস্যা তৈরি হতে পারে?

জলবিভাজিকা হলো এমন উচ্চভূমি যা দুটি নদী অববাহিকাকে আলাদা রাখে। এটি ক্ষয় হয়ে নিচু হয়ে গেলে দুটি আলাদা নদীর মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হতে পারে এবং একটি নদীর জল অন্য নদীতে মিশে যেতে পারে। এর ফলে নদীগুলির জলধারার ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে এবং বড় কোনো জলধারা তার গতিপথ বদলে ফেলতে পারে।

২৪. নদী উপত্যকার 'V' ও 'I' আকৃতির হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে নদী নিম্নক্ষয়ের পাশাপাশি পার্শ্বক্ষয়ও করে, ফলে উপত্যকাটি দেখতে ইংরেজি 'V' আকৃতির মতো হয়। কিন্তু শুষ্ক বা মরুপ্রায় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদীর পার্শ্বক্ষয় প্রায় হয় না, কেবল প্রবল নিম্নক্ষয়ের ফলে উপত্যকা অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ হয় যা ইংরেজি 'I' আকৃতির মতো দেখায়।

২৫. প্লাবনভূমির গুরুত্ব আলোচনা করো। এখানে কৃষি সমৃদ্ধ কেন?

বন্যার সময় নদীর দুপাশে পলি সঞ্চিত হয়ে প্লাবনভূমি গঠিত হয়। বাহিত পলিস্তর অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় প্লাবনভূমিতে কৃষিকাজ খুব ভালো হয় এবং বিভিন্ন ধরণের শস্য উৎপাদন করা সম্ভব হয়। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বা হোয়াংহো নদীর প্লাবনভূমি পৃথিবীর অন্যতম নিবিড় কৃষি অঞ্চল।

২৬. জলপ্রপাতের পশ্চাৎপসারণের জন্য দায়ী কারণগুলি আলোচনা করো।

জলপ্রপাতের নিচে নরম শিলা দ্রুত ক্ষয়ে গেলে ওপরের কঠিন শিলাটি কোনো অবলম্বন না থাকায় ভেঙে পড়ে। এর ফলে জলপ্রপাতটির অবস্থান ক্রমাগত উৎসের দিকে বা পেছনের দিকে সরে যেতে থাকে। কলোরাডো নদীর নায়াগ্রা জলপ্রপাত প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে এভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে।

২৭. মন্থকূপ (Potholes) ও প্রপাতকূপ (Plunge Pool)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

পার্বত্য অঞ্চলে নদীর তলদেশে পাথরের টুকরোর ঘর্ষণে যে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়, তাকে মন্থকূপ বলে। অন্যদিকে, জলপ্রপাতের নিচে জল ও বড় পাথরের আঘাতে যে অনেক বড় ও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রপাতকূপ বলে। মন্থকূপ নদীর তলদেশে এবং প্রপাতকূপ জলপ্রপাতের পাদদেশে গঠিত হয়।

২৮. নদীর গতিবেগ কমে গেলে কেন সঞ্চয় কাজ বৃদ্ধি পায়?

নদীর বহন ক্ষমতা তার গতিবেগের ওপর নির্ভর করে। নদীর গতিবেগ কমে গেলে তার বহন শক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়, ফলে নদী আর বড় পাথর বা পলি বইতে পারে না। তখন মহাকর্ষ বলের টানে বাহিত পদার্থগুলি নদীর তলদেশে বা তীরের পাশে জমতে শুরু করে এবং সঞ্চয় কাজ বাড়ে।

২৯. আদর্শ নদী হিসেবে গঙ্গা নদীর তিনটি প্রবাহের বর্ণনা দাও।

গঙ্গার উচ্চপ্রবাহ হিমালয়ের গঙ্গোত্রী থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত বিস্তৃত। মধ্যপ্রবাহ হরিদ্বার থেকে পশ্চিমবঙ্গের মিঠিপুর পর্যন্ত সমভূমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত। নিম্নপ্রবাহ মিঠিপুর থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনা পর্যন্ত বদ্বীপ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

৩০. নদী অববাহিকা কীভাবে জলচক্রের ভারসাম্য বজায় রাখে?

নদী জলচক্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বৃষ্টির জল নদীর মাধ্যমে সাগরে গিয়ে মেশে এবং সাগরের জল বাষ্পীভূত হয়ে আবার বৃষ্টিরূপে নদীতে ফিরে আসে। নদী এই চক্রাকার আবর্তন বজায় রাখতে এবং পৃথিবীর স্থলের জলকে সাগরে ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে।

৩১. নদী-দ্বীপ বা চরা কীভাবে গঠিত হয়? মাজুলি দ্বীপের উদাহরণ দাও।

নদীর মধ্য ও নিম্ন প্রবাহে স্রোত কমে গেলে বাহিত বালি ও পলি নদী গর্ভে থিতিয়ে পড়ে চড়া তৈরি করে। সময়ের সাথে এই চড়াগুলি বড় হয়ে দ্বীপে পরিণত হয়। ভারতের অসমের ব্রহ্মপুত্র নদীতে অবস্থিত মাজুলি হলো বিশ্বের বৃহত্তম নদী-দ্বীপ।

৩২. খাঁড়ি (Estuary) কাকে বলে? এটি কেন তৈরি হয়?

নদীর চওড়া ও ফানেলের মতো মোহনা যেখানে জোয়ারের জল নিয়মিত ঢোকে তাকে খাঁড়ি বলে। মোহনায় জোয়ারের প্রকোপ বেশি থাকলে এবং নদীস্রোত প্রবল হলে মোহনায় পলি জমতে পারে না, ফলে মোহনা চওড়া ও উন্মুক্ত থাকে। সুন্দরবনের নদীগুলিতে খাঁড়ি দেখা যায়।

৩৩. নীলনদের গতিপথ বর্ণনা করো। একে কেন মিশরের প্রাণ বলা হয়?

আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে হোয়াইট নাইল এবং তানা হ্রদ থেকে ব্লু নাইল উৎপন্ন হয়ে সুদানের খার্তুমে মিলিত হয়ে নীলনদ গঠিত হয়েছে। নীলনদ মরুভূমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলেও বন্যার পলিতে জমি উর্বর করে মিশরীয় সভ্যতার সমৃদ্ধি ঘটিয়েছে, তাই একে 'নীলনদের দান' বলা হয়।

৩৪. পার্বত্য অঞ্চলে নদী কেন এঁকেবেঁকে চলে না?

পার্বত্য অঞ্চলে নদীর শক্তি ও গতিবেগ অত্যন্ত বেশি থাকে এবং নদী কেবল নিম্নক্ষয়ের মাধ্যমে গভীর খাত তৈরি করে এগিয়ে যায়। এখানে নদীর পার্শ্বক্ষয় বা সঞ্চয় কাজ প্রায় হয় না এবং প্রবল স্রোত পথের বাধা কাটিয়ে সরাসরি নিচে নেমে আসে বলেই এখানে নদী সাপের মতো বাঁক নিতে পারে না।

৩৫. নদীর বহন কাজের চারটি প্রক্রিয়া বিস্তারিত আলোচনা করো।

নদী মূলত চারভাবে বহন করে: দ্রবণ (জলে মিশে যাওয়া), ভাসমান (সূক্ষ্ম কণা ভেসে চলা), লম্ফদান (পাথর লাফিয়ে চলা) এবং টান বা গড়িয়ে চলা (বড় পাথর গড়িয়ে চলা)। পদার্থের ওজন ও নদীর গতিবেগের ওপর ভিত্তি করে এই প্রক্রিয়াগুলি কাজ করে।

৩৬. নদী উপত্যকার ওপর বহুমুখী নদী পরিকল্পনার প্রভাব আলোচনা করো।

নদীকে সেচ, জলবিদ্যুৎ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের মতো একাধিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করাই হলো বহুমুখী নদী পরিকল্পনা। এর ফলে কৃষি ও শিল্পের উন্নতি হলেও বড় বাঁধ নির্মাণের কারণে অনেক সময় বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয় এবং নদীর নিম্নগতি শুকিয়ে গিয়ে স্বাভাবিক নাব্যতা হারায়।

৩৭. মিয়েন্ডার ঘাড় (Meander Neck) কীভাবে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ সৃষ্টিতে সাহায্য করে?

নদী যখন অত্যন্ত বাঁক নিয়ে চলে, তখন দুটি বাঁকের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ স্থলভাগকে মিয়েন্ডার ঘাড় বলে। নদী ক্রমাগত ক্ষয় করে এই ঘাড়টি কেটে ফেললে নদী বাঁকা পথ ছেড়ে সোজা পথে চলতে শুরু করে এবং পরিত্যক্ত বাঁকটি অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদে পরিণত হয়।

৩৮. নদীর মোহনায় সমুদ্রের লবণের পরিমাণ কীভাবে ব-দ্বীপ গঠনকে প্রভাবিত করে?

সমুদ্রের জলে লবণের পরিমাণ বেশি থাকলে নদী বাহিত সূক্ষ্ম পলিকণাগুলি লবণের প্রভাবে দ্রুত ঘনীভূত হয়ে তলায় থিতিয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়া পলি সঞ্চয়ে গতি আনে এবং ব-দ্বীপ গঠনে সাহায্য করে; লবণের ভাগ কম থাকলে পলি দ্রুত থিতিয়ে পড়ে না।

৩৯. নদীর স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হওয়ার পেছনে নগরায়নের ভূমিকা কী?

নদী তীরে শহর গড়ে ওঠার ফলে গৃহস্থালির বর্জ্য ও প্লাস্টিক নদীতে ফেলা হয়, যা নদীর জলকে বিষাক্ত করে। এটি নদীর নাব্যতা কমিয়ে দেয় এবং বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

৪০. নদীর নিম্নপ্রবাহে কেন পলির পরিমাণ ও সঞ্চয় কাজ বেশি হয়?

নিম্নপ্রবাহে ভূমির ঢাল প্রায় থাকে না বললেই চলে এবং নদীর গতিবেগ অত্যন্ত কমে যায়। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার ফলে বাহিত পলির পরিমাণ এখানে সর্বোচ্চ হয়, যা নদী আর বইতে পারে না এবং সঞ্চয় শুরু করে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url